সামাজিক সচেতনতা

যে ৭টি কারণে নতুন প্রজন্ম ক্রমশই ধূমপান করার প্রতি আরও আকৃষ্ট হচ্ছে

এক সময় ধূমপান করা যেন এক ধরনের পাপ ছিল। “ও খোদা! সিগারেট! না বাবা না। বাসায় জানলে মেরেই ফেলবে।” সেই কথাগুলো বোধহয় এখন আর শুনতে পাওয়া যায় না। যে হারে নতুন প্রজন্ম ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে তা সত্যিই হতাশাজনক।
বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন এই কথাগুলো ধূমপায়ীর সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়েই চলেছে। এত ক্ষতি থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন প্রজন্ম এত পরিমাণে ধূমপানে আসক্ত হচ্ছে? বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো-

ধূমপানে আসক্ত হওয়ার কারণ

সিগারেটের মধ্যে থাকে নিকোটিন যা কিছু সময়ের জন্য মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। কিন্তু যখনই নিকোটিনের প্রভাব শেষ হয়ে যায় তখনই শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। শরীর তখন আবারো নিকোটিনের অভাব বোধ করতে শুরু করে। ফলে আবারো ধূমপান করার প্রয়োজন অনুভূত হয়। এভাবেই সবাই ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ে।

সাথে সাথে মৃত্যু হয় না

ধূমপানে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও মানুষ ধূমপান করেই যাচ্ছে কেন? বিষ তো কেউ পান করছে না! “বিষ পান করার সাথে সাথে মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু ধূমপান করে তো কাউকে মরতে দেখিনি! ওরকম ছোটখাটো ক্ষতি তো সব কিছুই করে।” যখন মাথায় এরকম চিন্তা থাকবে তখন ধূমপান করতে আর বাধা কিসে।

মানসিক চাপ

প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই জুগে সবাইকে নাম্বার ওয়ান হতে হবে। এত চাপ একজন কিশোর কীভাবে সহ্য করবে? অগত্যা হতাশায় জর্জরিত হয়ে সে ধূমপানের মাধ্যমে নিজেকে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখতে চায়।

অল্প বয়স

সাধারণত অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েরা ধূমপানে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২৫ বছরের উপরে সাধারণত খুব কম মানুষই এর প্রতি আসক্তি অনুভব করে। কৈশোর বয়সে ভাল-খারাপের ধারণা কয় জনেরই বা থাকে!

সাহস দেখানো ও গ্রুপে মিশে থাকার জন্য

বয়স কম উত্তেজনা বেশি। কেউ বলল “পারিস খেতে, পারলে দে এক টান!” আর ওমনি সাহস দেখানোর জন্য সিগারেটটি হাতে নিয়ে দিয়ে দিল এক টান। ঐ যে শুরু, আর পিছপা হতে পারে না।

এটা যেন বড় হওয়ার প্রথম ধাপ। ধূমপান না করা মানে সে এখনো বাচ্চাই থেকে গেছে। এছাড়াও স্মার্টনেসের একটা ব্যাপার আছে। বেশির ভাগ কিশোর মনে করে যে ধূমপান করা স্মার্টনেস।

বাসা থেকে

যদি কেউ ছোটবেলা থেকে দেখে আসসে যে তার বাবা বা মা ধূমপান করে তার ধূমপান করতে কোন প্রকার দ্বিধাবোধ থাকেনা। শুধু বাবা-মাই না, পরিবারের যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এটা আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন, নাটক বা সিনেমা দেখে
বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, নাটক এবং সিনেমাতে ধূমপানকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন এটি খুবই স্বাভাবিক একটা কাজ। সিনেমার নায়ক যখন ধূমপান করছে আর শত শত ভিলেনকে মেরে তাড়িয়ে দিচ্ছে, তখন আপনার সন্তান নায়কের ভাল দিকগুলোর সাথে সাথে ধূমপান করাকেও স্বাভাবিক মনে করতে থাকবে।

শখ
বিভিন্ন সময় মানুষ শখের বসে ধূমপান করে। ধরুন আপনার বন্ধুদের মধ্যে সবাই সিগারেট খায় কিন্তু আপনি খান না। একদিন শখের বসে আপনি একটি সিগারেট খেয়েই দেখলেন। ভাবলেন ব্যাস। আর না।

সিগারেটের তিক্ত স্বাদ প্রথমে আপনাকে এরকমই বোধ করাবে। কিন্তু নিকোটিনের প্রভাব আপনার শরীরে বিস্তার করা শুরু করবে। কিছুদিনের মধ্যেই আপনার আরও একটি সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা জাগ্রত হবে। এভাবে এক দিনের শখ সারা জীবনের আসক্তিতে পরিণত হতে পারে।

 

*আমাদের সকল লেখা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা নিরীক্ষিত*

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে কোনো সমস্যা, রোগ নির্ণয় এবং ডায়েট প্লান তৈরি করতে ডাউনলোড করুন Rx71 Health App

আপনাদের সুবিধার্থে লিংক দেওয়া হলো http://bit.ly/2aStSKw

 

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন